ইন্ট্রোভার্টের ডাইরি
Atrayee Bhowmick

ইন্ট্রোভার্টের ডাইরি

ইন্ট্রোভার্ট বা ইন্টারনালী এক্সট্রোভার্ট দের নিয়ে কিছু বলার আছে আমার।এই প্রানীরা আমার আপনার আশেপাশে হরদম কিলবিল করছে।আপাত নিরীহ, আম জনতার মতোই দেখতে।কিন্তু এদের মস্তিষ্কে যদি মাইক্রোস্কোপ ঢোকানো যায়,তাহলে দেখবেন অহরহ নিউক্লিয়ার বিস্ফোরন ঘটছে।আমি আমার জীবনের বহু বছর খরচ করেছি এই ইন্ট্রোভার্টদের পেছনে।রিসার্চ করেছি বলা যায়।তো এই থিসিসের কিছু আউটকাম শেয়ার করার ইচ্ছা আমার।সমাজের এই নিজের মধ্যেই নিজে সেঁধিয়ে যাওয়া লোকগুলোর কয়েকটা প্রকট বৈশিষ্ট্য আছে।জীবন বিজ্ঞানের ভাষায় কয়েকটি ভাগে বিভক্ত এনারা- বাংলা মিডিয়াম ইন্ট্রোভার্ট পার্ট ওয়ান - আমরা যারা বাংলা মিডিয়াম এর ছেলেমেয়ে,তারা জানি,যে তুমি যত হনুই হও তোমার সামনে কেউ ফরফর করে ইংলিশ বললে তোমার গলা শুকিয়ে যায় ।মনে মনে ভাবতে থাকো এ বাবা আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করবে না তো। এই মনে মনে ভাবা থেকেই ইন্ট্রোভার্টের জনম্।এই যে মনে মনে ভাবছো কিন্তু বলতে পারছো না।কথা ঠোঁটের গোড়ায় এসে আটকে গেছে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো।ব্যস আর বাঁচার উপায় নাই।মৃত্যু সুনিশ্চিত।তোমার শরীরে ইন্ট্রোভার্সী বাসা বেঁধেছে।আমি ছোটবেলায় ইংলিশ মিডিয়ামদের এলিয়েন ভাবতাম।ভাবতাম এমন ইংরেজি শিখেছে যে আমার সাথে তো কথা বলবেই না,উল্টে আমি কথা বললে অফেন্ডেড হতে পারে।এইভেবে সভয়ে এড়িয়ে চলতাম।একবার এক ফ্যামিলি পিকনিকে গেছিলাম।তো সেখানে বেশ কিছু ছেলে মেয়ে ছিলো যারা প্রবাসী বাঙ্গালী ছিলো।এবার খেলতে খেলতে রামক্যাবলা আমি উল্টে পড়ে গেলাম।আমার জন্ম সার্টিফিকেটে লেখা আছে যে আমি কখনো অন্য নর্মাল বাচ্চাদের মতো স্বাভাবিক ভাবে পড়বোনা।তো এবারও তার কোনো অন্যথা হয়নি।আমি মুখথুবড়ে পড়তে পড়তে পাশের ছেলেটার প্যান্ট ধরে ঝুলে পড়লাম।বুঝতেই পারছো কি বিচ্ছিরি একটা ব্যাপার হয়েছিল।কিন্তু গল্প আসছে এরপরে।সেই ছেলেটি কিন্তু বিশেষ সুহৃদয় ছিলো এবং একগাল হেসে প্যান্টটা তুলতে তুলতে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো-"হেই গেট আপ্,গিভ মি ইওর হ্যান্ড"।ইংরেজী শুনে তো আমার গা গোলাচ্ছে তখন।কি আর করি জ্ঞান হারানোর ভান করে পড়ে থাকলাম।মনে মনে বিষ্ণুমাতাকে(কিছু মনে করবেন না) ডাকছিলাম- "ভগবান ধরণী বিভক্ত করো আর এই তীব্র ইংরেজ বালকের হাত থেকে পরিত্রাণ দাও।"আরো একটা গল্প বলবো এই সূত্রে।আমার আরো বেশ কিছু সরস ধারনা ছিল এই ইংরেজী মিডিয়াম নিয়ে।আমি জানতাম যে কনভেন্ট এডুকেটেড মানে তারা বাসে,ট্রামে,বাড়িতে সবজায়গায় ফুরফুর করে খালি ইংরেজী বলে,ইংরেজী গান ছাড়া শোনেনা এবং টিভিতেও খালি আমেরিকান চ্যানেলই দেখে।তো আমার বাড়িতে একবার এক দুরসম্পর্কের আত্মীয়া এসেছিল।তো যথারীতি সে ইংলিশ মিডিয়াম হওয়ায় আমি তাকে বিশেষ সমীহ করছিলাম।সঙ্গে সঙ্গে জোঁকের মতো সেঁটে থাকা,জলটা চাটা এগিয়ে দেওয়া,টুকটাক ফাইফরমাশ খাটা,এককথায় আমি ওর ফ্যান তখন।এবার দুজনে টিভি দেখছি বসে।বলা ভুল হলো, আমি ওকে টিভি দেখাচ্ছি।খুঁজে খুঁজে ইংরেজী কোনো চ্যানেল বের করে চালিয়ে বসে আছি।খানিকক্ষণ পর ম্যাডাম আমাকে অবাক করে বললেন,"তুই কি সবসময় এসব ইংরেজী সিনেমা দেখিস?আমি তো কিছুই বুঝিনা এদের অ্যাকসেন্ট।এক আকাশের নীচে টা চালা না।"আমার তখন চোখে জল এসে গেছে প্রায়।ক্ষুদ্র তুমি তুচ্ছ নও।এরকম একজন স্কলার,বাংলা সিরিয়াল দেখবে।যে বাংলা সিরিয়াল দেখার জন্য কিনা মা কাকিমাদের কত হাসাহাসি করি।মনে মনে ওকে আরো খানিকটা শ্রদ্ধা করলাম ঐদিন।দুজনে অনেক রাত অবধি সেদিন বাংলা সিরিয়াল দেখেছিলাম।এই গল্পটা এমনিই বললাম।ভুল ধারণা থেকেও অনেক সময় ইন্ট্রোভার্সীর উৎপত্তি হয় বোঝানোর জন্য। বাংলা মিডিয়াম ইন্ট্রোভার্ট পার্ট টু- হরমোন্ হরমোন্ তোমার পড়াশোনা নাই কুসুম??ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি পুতুলনাচের ইতিকথার এই কালজয়ী উক্তিটা এতো খারাপ ভাবে ব্যবহার করার জন্য।কিন্তু এই প্রসঙ্গে খুবই যথাযোগ্য বলে লিখলাম।বাংলা মিডিয়াম মানেই বেশীরভাগ বালিকা অথবা বালক বিদ্যালয়।নন-কোয়েড স্কুল।এবার এই বালক বালিকারা কম বয়সেই পশ্চাৎদেশপক্ক হয়ে ওঠে।উঠতি বয়সের হরমোন এদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।মেয়ে দেখলে,মুখচোখ লাল হয়ে যাওয়া,মেয়ে যদি কথা বলে ফেল্লো তো সারারাত ঘুম না আসা এইধরনের সিম্পটম বছর তেরোর পরথেকেই দেখা দেয়।অনেক বড় বয়স অবধি আমার এই ধারণা ছিলো যে ছেলেদের দিকে বেশী তাকালে পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়।হাসার কিছু নেই আমার স্পষ্ট মনে আছে বেশ কয়েকবার খারাপ হয়েওছিলো।এসব ব্যাপারে বাবাদের ভূমিকা অনুঘটকের মতো কাজ করে।আমার আপাত নিরীহ পিতৃদেব বাড়িতে কোন ছেলেবন্ধু এলে এমন ভাব করতো যেন আমি নারকোসের সাথে যুক্ত আর ওই হতভাগা ছেলেটি ড্রাগ ডেলিভারি করতে এসেছে।তো এই ওনলি বয়েজ স্কুলের ছেলেদের মধ্যে বেশ কিছু এচঁড়েপাকা থাকে।তোমার সামনেই তোমার পছন্দের মেয়ের সাথে গিয়ে কথা বলে ফেললো,কিংবা টিউশনে খাতা চেয়ে বসলো,এমন জোকস্ বললো তোমার নায়িকা খিলখিল করে হাসছে,এদিকে তোমার বুকের ভেতর তখন রক্তআমাশার মতো ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে।এই কথা না বলতে পারার অসহায়তা,ইস্ট্রোজেন প্রোজেস্টেরনের ইমব্যালেন্স থেকেই আসে কচি বয়সের ইন্ট্রোভার্সী।এইসব ইন্ট্রোভার্টরাই ফেসবুকে এঞ্জেল প্রিয়া বা মারমেইড ডলি সেজে বসে থাকে।নারীরূপ ধারন করে ছিপ ফেলে সোশ্যাল মিডিয়ায়।লিঙ্গ পরিবর্তন করে হলেও মহিলা জাতির একটু কাছে আসা যায় যদি।এদিকে তোমার জানেমন ভিভোর ফোনে ফর্সা,পাউটফেস সেল্ফি তুলে অন্য হিরো পটাচ্ছে।কিন্তু চিন্তার কিছু কারণ নাই।স্বয়ং কিংখান বলেছেন "আগার কিসি চিজ্ কো দিল সে চাহো তো গোটা বিশ্ব,গ্যালাক্সি,ছায়াপথ,নীহারিকা তোমায় হেল্প করবে সেটা পেতে"।তো যতই তোমার হিরোইন এখন এদিক,ওদিক পার্ক বা ঝিলপাড়ের ধারে প্রেমলীলা করে বেড়াক,একদিন ঠিক নিক্ জোনাসের মতো এই হাত ওই হাত ঘুরে তোমার কাছে চলে আসবে।তাই একমুখ নতুন ওঠা গোঁফদাড়ি,লোমশ পা ওয়ালা কিশোর ছেলেটা যখন বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েদের দেখে লজ্জা মেশানো ভালোলাগা ফিল করতে শুরু করে,তখন ওকে ইন্ট্রোভার্ট না বলাই ভালো।সবই হরমোনের খেলা। হাউস ওয়াইফ বনাম কেরানি বর ইন্ট্রোভার্সী - দাম্পত্য জীবনের মারপ্যাঁচ সবথেকে ভালো বুঝতেন শ্রীশ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র এবং সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়।এরমধ্যে শ্রী শ্রী ঠাকুর আবার সবর্ণ,অসবর্ণ,ব্যঞ্জনবর্ণ এইরকম নানাধরণের বিবাহ নিয়ে বুংবাং এক্সপেরিমেন্ট করতেন।মানে তেজটা দেখার মত।তোমরা একটা বৌ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছো আর আমি কেমন দু দুজনকে আঙ্গুলে খেলাচ্ছি দেখো।আরো সব চমৎকার থিয়োরি আছে ওনার দাম্পত্য জীবন নিয়ে,আরেকদিন বলবো।যাক গল্পে ফিরি,সরি গল্প নয় থিসিস্।দাম্পত্যের কম্পোনেন্ট দের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেন স্ত্রীলিঙ্গ।ছেলেরা ঠিক কি বলছে অথবা কি ভাবছে সেই নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই।ওইজন্য বিয়েবাড়ি যাওয়ার সময় আমরা বলি বৌ দেখবো,গিফ্ট দেবো,খাবো,চলে আসবো।বর কেমন হলো বয়েই গেল।সেই তো কলুর বলদ কেমন আর হবে।এবার এই ওয়াইফ জাতিতে সবথেকে নামজাদা হচ্ছে হাউসওয়াইফ্।যেহেতু সব কিছুর জন্য হাত পেতে টাকা চাইতে হয়,তাই অদ্ভুত একটা অভিমান কাজ করে এদের মধ্যে।অভিমান থেকে আসে এক্সপ্রেস করতে না পারা,তার থেকে আসে সেই ইন্ট্রোভার্সী।আমি কেমন পিকু সিনেমার অমিতাভ বচ্চনের মতো সবকথা ঠেলে মোশন সরি ইন্ট্রোভার্সীতে নিয়ে যাচ্ছি।গল্পে ফিরি এবার বেচারা বর বিকালে অফিস থেকে ফিরে বুঝতে পারেনা চা তে চিনি কম কেন কিংবা রান্নাঘরে বাসনের ঝনঝন এতো বেশী হচ্ছে কেনো।সে নিরীহ কেরানি,অফিস থেকে সাহেবের ধাতানি খেয়ে ফিরেছে।সে কিভাবে জানবে যে গতপরশু কেরালা ট্যুর নিয়ে তার সংসারসীমান্তে যে গোলাগুলি চলেছে তার আগুন এখনো নেভেনি।কিংবা গত সপ্তাহে ৩ বার টাকা চেয়েছিলো পুজোর বাজার করবে বলে,তুমি কেরানি বেমালুম ভুলে মেরে দিয়েছো।এবার ভোগো।আসলে পর নির্ভরশীলতাতে একটা ভয়ানক লজ্জা আছে।গা মোছার গামছা কিনতেও যেখানে হাত পাততে হয় সেখানে জটিলতা আসবেই।এদিকে অফিসে চাকুরে লোকটা বসের কাছে উঠতে বসতে ঝাঁঝানি খেয়েছে আজ।বাড়িভাড়া দিয়ে হাতে যৎসামান্য টাকা থাকবে।ওতে পুজোর মাস কিভাবে চলবে কে জানে,ছেলেটার নতুন একটা টিউশন দিতে হবে সামনের মাসে।এই যে এত কিছু চলছে মাথায়,কেউ কাউকে বললো না।এরথেকে মারাত্মক দুটো ইন্ট্রোভার্ট জন্ম নিলো।সবাই অনুকূলচন্দ্র নয়।অভিমান থেকেও ইন্ট্রোভার্সী আসে।এদের মনের কথা গানে লিখলে হবে -"তোমাকে বুঝিনা প্রিয়,বোঝোনা তুমি আমায়,দূরত্ব বাড়ে যোগাযোগ নিভে যায়।" বেকার ছেলে ইন্ট্রোভার্ট - আমাদের বঙ্গদেশে প্রত্যেক বেকার ছেলের পেছনে কাঠি করার জন্য একটা পাড়াতুতো কাকু বা দূরসম্পর্কীয় মামা থাকে।বেকার জাতির মধ্যে বিখ্যাত হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার বেকার।এবার ছেলের থার্ড ইয়ার পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই মামা কাকারা জেগে ওঠে।ক্যাম্পাসিং হলো??অমুকের ছেলে তো ইসরো তে চাকরি করে,তমুকের মেয়ে গুগল।তোমার কি হলো বাছা??নিজের ছেলে হয়তো রঙমিস্ত্রি তাও তোমাকে ভালো চাকরি পাওয়ানোর দায়িত্ব ওনার।আমার একজন দূরসম্পর্কীয় মামা ছিলো,যিনি আমাকে দেখলেই ক্যুইজ করতে শুরু করতেন।বাল্ব কিভাবে জ্বলে?এসি ও ডিসি কারেন্টের মধ্যে পার্থক্য কি?ট্রান্সফরমার কিভাবে অপারেট করে ইত্যাদি ইত্যাদি।আমি যাই উত্তর দিই উনি গম্ভীরভাবে মাথা নাড়তেন।বলতেন হয়নি।আমি ওই মামা কে দেখলেই পালিয়ে বেড়াতাম।এখনো পালাই।কারন এখন ওনার ট্রেন্ডিং কোশ্চেন হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কেনো আমি ব্যাঙ্কে চাকরি করি।ওনাকে যতই বোঝাই বোঝেননা,যে জালি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এদিক ওদিক ব্রিজ ভেঙে বেড়াবো,ট্রান্সফরমার উড়িয়ে বেড়াবো তার থেকে ভালো লোকের টাকা গুনি।উনি বোঝেন না।তাই আমি এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছি।ওনাকে দোষ দেবোনা,আসলে সবার জীবনে তো একটা টার্গেট থাকে। ওনার টার্গেট ছিলো আমাকে নাসা অবধি অন্তত পাঠানো।টার্গেট অ্যাচিভ না হওয়াতে খুব ভেঙে পড়েছিলেন।তো বঙ্গদেশে এরকম হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট,পোস্ট গ্র্যাজুয়েট,রিসার্চ স্কলাররা ফ্যা ফ্যা করে ঘুরছে।আর এই কাকু,জ্যেঠু,পিসিরা এদের দেখলেই, "কি তাহলে কবে জয়েনিং?" মার্কা বিষাক্ত প্রশ্ন করে গা জ্বলিয়ে থাকে।তো এই গা জ্বলানি থেকে আসে বদহজম,বদহজম থেকে ডিপ্রেশন,ডিপ্রেশন থেকে আসে ইন্ট্রোভার্সী।প্রথমে ছেলেটা বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা বন্ধ করে দেয়,তারপর বাবা মায়ের সাথে বিয়েবাড়ি যাওয়া,তারপর শুরু করে আত্মীয় স্বজন আসলে বাড়ি থেকে কাল্টি মারা।এইভাবে গোটা সমাজ থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে।আনসোশাল থেকে অ্যান্টিসোশাল সমস্ত খেতাব এখন তার পকেটে।এবার ছেলেটার এই রোগের পেছনে কিন্তু ওই কাকু দায়ী নয়।কাকু নিজের ফ্রাসট্রেশান এর উপরে মেটাচ্ছে।ওদিকে কাকুর ছেলের পেছনেও একজন জ্যেঠু আছে।যত বেশী চপ সিঙাড়া শিল্পতে আমরা উন্নতি করছি মধুচক্রের মতো এই কাকুচক্রটাও ছড়িয়ে পড়ছে।কাকুর দোষ নাই উনি জানেন না যে বেকারত্বের লজ্জা থেকেও ইন্ট্রোভার্সী আসে। ব্ল্যাক হোল ইন্ট্রোভার্ট- মনুষ্য জগতে যেমন শ্রেষ্ঠ হচ্ছে আর্যজাতি তেমনি ইন্ট্রোভার্টদের মধ্যে কুলীন বামুন হলো এই ব্ল্যাক হোল ইন্ট্রোভার্ট।বৈজ্ঞানিক কোনো তাৎপর্য নেই এরপেছনে।এই যে গভীর কালো গর্তে তুমি পড়ছো তো পড়ছো,কোনো তল পাচ্ছোনা এইটুকুই মিল খালি।প্রায় ৫০০০জনে একজন এই খাঁটি শুদ্ধ ইন্ট্রোভার্ট পাওয়া যায়।শুনেছিলাম বহুবছর তপস্যা করে শনি ঠাকুর এই জাতির পেটের কথা জানার চাবিকাঠি উদ্ধার করেছিলেন।কিন্তু থিয়োরি টা কারো সাথে শেয়ার করার আগেই ওর শনির দশা লেগে গেলো।যাকেই বলতে যান তারই ঘরবাড়ি উজাড় হয়ে যায়,নাহলে চন্দ্রবিন্দুপ্রাপ্তি ঘটে।তাই এই রহস্য আজও অধরা।এদের সনাক্ত করার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে।এরা কখনো মন খুলে হাসবেনা বা কাঁদবেনা।প্রান খুলে কারো প্রশংসা করবেনা,কিন্তু মজার কথা হলো নিন্দাও করবেনা।এমনকি সানি লিওনি ও যদি লায়লা ম্যায় লায়লা নাচতে নাচতে এসে জিজ্ঞাসা করে যে দেখতে কেমন লাগছে বলবে "ভালো"।জগৎ সংসারে এমন কোনো বস্তু বা ব্যক্তি নাই যা একে বিচলিত করতে পারে।সমস্ত কঠিন কথার উত্তর হচ্ছে "ভালো"।যদি তুমি ভেবে থাকো,যে চিমটি কাটা গা জ্বলানো কথা বলে ওর ব্রহ্মতালু জ্বলিয়ে দিয়ে স্বর্গসুখ নেবে,তাহলে তুমি এখনো দুগ্ধপোষ্য শিশু।যতই উত্যক্ত করার চেষ্টা করো তোমার বিষ তোমার কাছেই ফিরে আসবে বুমেরাং হয়ে।এদের সাথে ঝগড়া করে মজা পাবেনা,প্রেম করে সুখ পাবেনা,এমনকি ব্রেকআপ করেও আনন্দ নাই।কারন তোমার জন্য দুঃখ হলো কিনা সেটাও জানতে পারবেনা।আসলে এদের নিজস্ব একটা দুনিয়া আছে।বহির্বিশ্বের কোনো প্রকার আলোড়ন এদের স্পর্শ করতে পারেনা।আমি বেশ কয়েকবার গুগল করেছি -"হাউ টু ক্র্যাক আ ইন্ট্রোভার্ট'স মাইন্ড"।মারাত্মক রকম ফ্যাটাল এরর্ এসেছে নাহলে ল্যাপটপ হ্যাঙ্গ হয়ে গেছে।স্বয়ং শিবঠাকুর নাকি এরকম ধাঁচের ইন্ট্রোভার্ট ছিলেন।তাই এদের সাথে বেশী পাঙ্গা না নেওয়াই ভালো। কনক্লুশনে এটাই বলবো যে পিওর ইন্ট্রোভার্ট বলে কিছু হয়না।আমরা সবাই কোথাও না কোথাও ইন্ট্রোভার্ট।যেখানে আমরা সিকিওর ফিল করি সেখানে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসি।আমি যেমন বেশী এলিট ক্লাস লোকজনের সামনে বোবা হয়ে যাই।কিল মারলেও মুখ দিয়ে কথা বেরোয়না।কেমন ভয় ভয় লাগে যদি বেফাঁস কিছু বলে ফেলি ওদের খারাপ লেগে যায়।যাকগে আমার এখন নবান্নতে মিমি নুস্রাতের সাথে মিটিং থাকায় আর বেশী কিছু লিখতে পারবোনা।ইন্ট্রোভার্ট কথাটার বাংলা প্রতিশব্দ কারো জানা থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখো।

"Please share the article if you like .Also do not forget to put your valuable comments to encourage the author."

Related Articles





keyboard_arrow_up

© 2020 Storybaaz All rights reserved.